হ্যান্ডপেইন্টের সিক্রেট টিপ্স
আজকে অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় শেয়ার করবো
অনেকে হ্যান্ডপেইন্টের খুটিনাটি বিষয়ে জানতে চেয়েছেন। আসুন জেনে নেই হ্যান্ডপেইন্টের আদ্যোপান্ত
১. কাপড়ের রং কি ধুলে উঠে যাবে?
উঃ না, রঙগুলো ফেব্রিকে ব্যবহারের জন্যই তৈরি। কাপড় ধুলে ও রং উঠবে না, এমনকি অন্য কাপড়ের সাথে ধুলেও রং উঠে কাপড় নষ্ট হবে না। যদি না কাপড় থেকে মানে কাপড় কোয়ালিটি খারাপ হবার কারণে কাপড়ের রং উঠে। হ্যান্ড পেইন্ট এর যে কালার ব্যবহার করা হয় সেটার রং উঠবে না।
২. হ্যান্ড পেইন্ট এর কাপড় কি কোন আলাদা নিয়মে ধুতে হবে?
উঃ না, সেটাও করার দরকার নেই। সুতি কাপড় যেভাবে ডলে মুচরে ব্যবহার করেন ঠিক সেভাবেই হ্যান্ড পেইন্ট এর কাপড় গুলো ব্যবহার করতে পারবেন। প্রতিদিন ব্যবহারের জন্য আরামদায়ক পাশাপাশি ফ্যাশনেবল।
৩. রং বানাতে কি কি মেডিসিন ব্যবহার করতে হয়?
উঃ যে যে মেডিসিন গুলো ব্যবহার করতে হয় ধারাবাহিকভাবে সেগুলো তুলে ধরছি।
🎨 হোয়াইট পেস্ট (white peast )– ডিপ কালারের কাপড়ে (কালো ,নেভিব্লু )এইসব কাপড়ে রঙ ফুটিয়ে তুলতে ব্যাবহার করা হয়।
🎨নিউ ট্রেক্স–এটা হালকা কালারের রঙের সাথে মিক্স করলে ওই হালকা কালারের রঙ তুলনামূলক ডিপ বা উজ্জ্বল হয়ে যায় মানে খুব একটা হালকা বা ফ্যাকাসে লাগেনা।
🎨এন/ কে (ণ/ক)–কাপড়ে রঙকে টেকসই করতে এটা ব্যাবহার করতে হয়।
🎨বাইন্ডার (bainder ) –এটা মানে আঠা । কাপড়ে যাতে রংগুলো বসে যায় সে জন্য ব্যাবহার করতে হয়।
🎨এক্রেলিক (acrelic color ) কালার / Row কালার–এটা আসলে বেসিক কালার যেটার সাথে উপরের মেডিসিনগুলো যোগ করে রঙ তৈরি করতে হয়।
🎨 এম পি ওয়ান (Mp one )–এটা আপনি যখন হালফ সিল্ক ,মসলিন ,জর্জেট ,ব্যাগ ,জুতা এই সবের উপরে কালার করবেন তখন এটা ব্যাবহার করতে হবে বাকি সুতি কাপড়ে ব্যাবহার করার দরকার নাই।
এমনিতে বাজারে রেডি মেড কালার (febric color )পাওয়া যায় যাতে কোন মেডিসিন অ্যাড করতে হয়না কিন্তু এইসব রেডি মেড রঙ আমাদের বিজনেসের জন্য ব্যয়বহুল হয়ে যাবে কারণ রেডি মেড কালারগুলোর কৌটায় খুব সামান্যই রঙ থাকে আর এক এক টার দাম ৩০ থেকে ৪০ টাকা করে পরে তাই মেডিসিনগুলো কিনে আমরা বাসায় টেকসই রঙ বানিয়ে নিতে পারবো।
এবার পেইন্ট করার কিছু নিয়ম বলি —
* হ্যান্ড পেইন্টিং করার আগে যে কাপড়ে কাজ করা হবে তার নিচে ওয়েল ক্লোথ/পলি পেপার এবং শক্ত কোন কাগজের বোর্ড, নিউজপেপার ভাজ করে বা পুরনো কাঁথা অথবা ফ্রেম দিয়ে নিতে হবে।
* তারপর নিজের মন মত ডিজাইন অনুযায়ী তুলি নির্ণয় করে তা দিয়ে কাপড়ে এঁকে নিতে হবে। প্রয়োজন হলে আগে পেন্সিল বা কলম দিয়ে ডিজাইন এঁকে নিবেন।
* যেই কাপড়ে রঙ করা হয়েছে তা প্রথমে ফ্যানের বাতাসে আর পরে একদিন রোদে দিলেই হবে।
*রঙ করার ২৪ঘন্টা পর কাপড় উলটো করে যেখানে যেখানে কাজ করা হয়েছে সেখানে মোটামুটি গরম আয়রন দিয়ে কাপড়টা ভালভাবে আয়রন করে নিতে হবে এতে করে ডিজাইন আর রঙ দুইটাই দীর্ঘস্থায়ী হয়।
* কাপড়ে হ্যান্ড পেইন্ট করার ১ মাস আগে কাপড় না ধোয়াই ভাল। ১ সপ্তাহ পর থেকে খুব আলতো হাতে যত্ন নিয়ে কাপড়টা ধুলে কাপড়ে পেইন্টিং অনেকদিন ভাল থাকবে।
যারা এই ফেব্রিক পেইন্টিং নিয়ে বিজনেস শুরু করতে চাচ্ছেন কিন্তু কিভাবে কি করবেন বুঝতেছেন না তাদের জন্য আশা করি তথ্য গুলো কাজে দিবে এবং করতে করতে পারফেক্ট হবে ।কোন ব্যবসায় নামার আগে অবশ্যই সেটা নমুনা পরীক্ষা করা জরুরি। সে বিষয়ে সম্যক জ্ঞান নিয়ে মাঠে নামা উচিত।
ধন্যবাদ❤

No comments